
ফিলিস্তিন থেকে ভাইরাল সর্বশেষ নিউজ!
ফিলিস্তিন থেকে ভাইরাল সর্বশেষ নিউজ! গাজায় চলমান সঙ্কট প্রতিদিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বোমার শব্দের নিচে চাপা পড়ছে শিশুদের হাসি, খাবারের জন্য হাহাকার করছে পুরো একটি জনপদ। অথচ বিশ্ব যেন অনেকাংশে নির্বিকার। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসছে হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা, প্রতিবাদ ও সাহায্যের অভিনব চেষ্টা যা মানবতাকে আবার নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
ইজরায়েলের সৈন্যরা তো দুরের কথা বর্তমানে আমেরিকার সৈন্যরা ফিলিস্তিনি নারীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে। যারা নিজেদের কে মানবতার ফেরিওয়ালা বলে তাদের থেকেও এখন এমন আচরণ বেরিয়ে আসছে।
বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ৫৪ বছর পর কে এগিয়ে?
সম্প্রতি এক ফিলিস্তিনি নারী গণমাধ্যমের কাছে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, আমরা যখন মানবিক সাহায্য সংগ্রহ করছিলাম, তখন একদল আমেরিকার সেনা আমাদের থামিয়ে দেয়। আমাদের উপর শারীরিক ও মানসিক চাপে ফেলে দেওয়া হয়। শুধু গায়ে হাত তোলা নয়, আমাদের আত্মসম্মানকে ভেঙে ফেলা হয়েছিল। আমরা শুধু সাহায্য চাইছিলাম কিন্তু জবাবে পেয়েছি অপমান।

এই অভিজ্ঞতা শুধু এক নারীর নয়, বরং হাজারো ফিলিস্তিনি নারীর প্রতিদিনের বাস্তবতা। এটি মানবিকতার এক গভীর সংকটের প্রতিচ্ছবি। এমন আর এক ফিলিস্তিনি নারি তার সাথে হওয়া অন্যায় আল জাজিরার সাংবাদিকদের জানান।
তিনি ফিলিস্তিনি নারী বলেন, গাজায় যখন প্রত্যেক হাজারো শিশু খেতে না পেরে কাঁদছে। খেতে না পেরে মারা যাচ্ছে। তখন আপনারা মুসলিম হয়ে, একজন মানুষ হয়ে কিভাবে আরামে খাবার খান? কিভাবে আরামে ঘুমাতে যান। কোথায় আজ আরব দেশগুলো? মুসলিম উম্মাহ কোথায়? এই প্রশ্ন শুধু রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি নয় আমাদের সবার বিবেকের প্রতি একটি প্রত্যক্ষ আহ্বান।
এদিকে ফিলিস্তিনের শিশুরা যখন খেতে পারছে না। তখন একদল বিদেশি মানবাধিকার কর্মী অভিনব কায়দায় ফিলিস্তিনের জন্য খবার পাঠানোর চেষ্টা করছে। তারা, মানবাধিকারকর্মী খাবার ভর্তি বড় বড় প্লাস্টিক বোতল সমুদ্রে ছুঁড়ে দিচ্ছে , এই আশায় যে সেগুলো গাজার উপকূলে ভেসে যাবে। এ উদ্যোগ শুধুই প্রতীকী নয়, বরং এটি এক আবেগঘন প্রতিবাদ ও সাহায্যের চিত্র।

ইজরায়েল কোনো ভাবে গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছাতে দিচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে তারা এই উপায়ে খাবার দেবার চেষ্টা করছে। এমন আরো একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, একজন মিশরীয় ব্যক্তি এমনই ভাবে বোতলে করে খাবার সাগরে ভাসিয়ে দিচ্ছে। এই আশায় যে এই বোতল ফিলিস্তিনের উপকুলে পৌঁছে যাবে?
তিনি খাবারের বোতর গুলো পানিতে ফেলছে ও বলছেন, আমার হাতে কিছুই নেই, কেবল এই ছোট্ট খাবারগুলোই পাঠাতে পারি। প্রতিটি বোতলের সঙ্গে আমি দোয়া করি, যেন এগুলো গাজার ক্ষুধার্ত শিশুদের মুখে পৌঁছে যায়। আল্লাহ যেন এই ছোট চেষ্টাকে কবুল করেন।
এখানে ক্লিক করে ভিডিও গুলো দেখতে পারেন Hridoy observer
এ ধরণের চেষ্টাগুলো প্রমাণ করে যে, মানবতা এখনও বেঁচে আছে যদিও তা আজ চ্যালেঞ্জের মুখে। যেখানে মানবিকতা নীরব, সেখানে কিছু হৃদয় কথা বলে।
গাজায় একদিকে অব্যাহত বিমান হামলা, অবরোধ ও খাদ্য সংকট, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতি যেন স্থবির। অথচ প্রতিদিন মৃত্যুর খবর নিয়ে আসে নতুন শিশু, নারী, এবং নিরীহ নাগরিকের গল্প।
বাংলাদেশে এত মেড ইন ইন্ডিয়া পোশাক কেন ?

জাতিসংঘ, ওআইসি, আরব লীগসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ আজও দেখা যায়নি। কেবল বিবৃতি দিয়ে বা উদ্বেগ প্রকাশ করে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব নয়।
এখন কথা হলো, আমরা কি করতে পারি? গাজা আজ একটি যুদ্ধক্ষেত্র নয়, এটি মানবতার পরিক্ষাগার। আমরা সবাই আমাদের জায়গা থেকে কিছু না কিছু করতে পারি। যেমন – সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করা। নির্ভরযোগ্য সংস্থার মাধ্যমে সাহায্য পাঠানো। সংবাদ মাধ্যমকে সত্য তথ্য তুলে ধরতে উৎসাহ দেওয়া এবং সর্বোপরি, দোয়া ও মানবিক অবস্থান গ্রহণ করা।
আজ যদি আমরা মুখ ফিরিয়ে নিই, তাহলে কালকে হওতো মহান আল্লাহ আমাদের দিক থেকেও মুখ ফিরিয়ে নেবে । গাজার শিশুরা আজ শুধু খাবার বা ওষুধ চাইছে না, তারা আমাদের নীরবতা ভেঙে একটুকু সহানুভূতি চাইছে। গাজা এখন আর শুধু একটি জায়গা নয় – এটি এখন মানবতার প্রতিচ্ছবি।