
আল্লাহকে নিয়ে কটুক্তি! ভারতে আবারও ইসলাম অবমাননার ঘটনা
ভারতের, বলাই মহাসংঘের নেতা মনোজ কুমার পারমার আল্লাহর সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন মুসলমানদের সৃষ্টিকর্তা ( আল্লাহ) সবজায়গায় নেই। সবজায়গায় আছে আমাদের সৃষ্টিকর্তা (ভগবান)। এছাড়াও তিনি নানা আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।
এমনই একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে – ভারতের মিডিয়া “দ্য মুসলিম ” যেখানে মনোজ পারমার এমন মন্তব্য করছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যেপ্রদেশের, শাজাপুরে। ” দ্যা মুসলিম ” তাদের পোস্টের মাধ্যমে জানায় – একজন রাজনৈতিক নেতা হয়ে এভাবে কোন ধর্ম সম্পর্কে অবমাননা মুলক বক্তব্য দেওয়া মনোজ পারমারের রাজনৈতিক কৌশল।
তিনি এর আগেও এভাবে নানা আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি হয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে মনোজ পারমার হিন্দু মুসলিম বিদ্বেষ ছাড়াচ্ছে। তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের অবমাননা করছেন।
বাংলাদেশে এত মেড ইন ইন্ডিয়া পোশাক কেন ?

” দ্যা মুসলিম ” তাদের প্রকাশিত ভিডিও তে দেখা যাচ্ছে মনোজ পারমার ইসলাম সম্পর্কে কি কি বলছেন। তিনি বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, এই বিশ্ব যদি আল্লাহ তৈরি করতো তাহলে বিশ্বের নাম আল্লাহ হত। বিশ্ব যদি খোদা তৈরি করতো তাহলে বিশ্বের নাম খোদা হত। কিন্তু দুনিয়া বা বিশ্ব আসলে তৈরি করেছেন আমাদের “ব্রহ্মা”। তাই আমাদের বিশ্বের নাম ব্রহ্মাণ্ড।
এদ্বারা বোঝা যায়, “বিশ্বব্রহ্মাণ্ড আল্লাহ নয় বরং তৈরি করেছেন আমাদের ব্রহ্মা দেবতা “। এই বক্তব্যের বিন্দুমাত্র কোনো লজিক আছে। মনোজ পারমারের বক্তব্য আসলে খুবই ভ্রান্ত, দুর্বল যুক্তি আর ভাষাগত অজ্ঞতার ফসল।
চলুন বিষয়টি একে একে খোলাসা করি:
১. ভাষা বনাম স্রষ্টা
কোনো কিছুর নাম নির্ভর করে ভাষা, সংস্কৃতি ও প্রচলিত ব্যবহার এর ওপর। যেমন, পানি বাংলায় “পানি”, ইংরেজিতে “Water”, আরবিতে “ماء (মা’আ)”, সংস্কৃতে “জল”। এখন কি এর মানে দাঁড়ায় যে পানি আলাদা আলাদা বস্তু? মোটেও না।
একইভাবে, বিশ্ব/দুনিয়া/ইউনিভার্স শব্দগুলো শুধু ভাষাগত পার্থক্য। তাই “যদি আল্লাহ বানাতেন তবে নাম হতো আল্লাহ” — এটা একেবারেই অশিক্ষিত যুক্তি।
২. “ব্রহ্মাণ্ড” শব্দের ভুল ব্যাখ্যা
“ব্রহ্মাণ্ড” সংস্কৃত শব্দ, মানে “ব্রহ্ম (সৃষ্টি শক্তি/ঈশ্বর)-এর আণ্ড (অর্থাৎ ডিম-সদৃশ বিশ্ব)”, প্রাচীন ভারতীয় কল্পনা।
এই নাম ব্যবহার করার মানে এই নয় যে বিশ্ব ব্রহ্মা সৃষ্টি করেছেন। ভাষায় যেটা আগে থেকে প্রচলিত ছিল সেটাই থেকে গেছে। যেমন: ইংরেজিতে Sunday (সূর্যের দিন), Thursday (Thor’s day)। আজকের দিনে কি সবাই Thor বা সূর্যকে পূজা করে? না, এটা শুধু নাম।

৩. বাস্তব যুক্তি
যদি মনোজ পারমারের যুক্তি ধরি, তাহলে ইংরেজিতে যেহেতু Universe বলা হয়, তাহলে কি সৃষ্টিকর্তার নামও “Universe”? তাহলে তো হিন্দুরা নিজেরাই বলবে “আমাদের ঈশ্বরের নাম Universe” — এটাই হাস্যকর হয়ে যাবে।
আসলে সৃষ্টিকর্তার নাম কোনো ভাষাগত নামের ওপর নির্ভর করে না। তিনি যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি ভাষা ও নামের ঊর্ধ্বে।
৪. কোরআনের আলোকে
আল্লাহ নিজেই বলেন:
“তোমরা যাই বলে ডাকো না কেন, সব সুন্দর নামই আল্লাহর।” (সূরা ইসরা ১৭:১১০)
অর্থাৎ মানুষ যেকোনো ভাষায় ডাকতে পারে—আল্লাহ, খোদা, গড, Dieu, Gott—তিনি সেই একই স্রষ্টা। শুধু মনে মনে আল্লাহ কে মানলেই হবে। যদি আপনি গড বলার সময় যিশুকে ভাবেন, তাহলে তো আর হবে না?
মনোজ পারমারের কথার জবাব
মনোজ পারমার আসলে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য ইসলাম ও আল্লাহকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেন। তার এই যুক্তি প্রমাণ করে। তিনি ভাষা ও শব্দের মৌলিক জ্ঞান রাখেন না।
তার উদ্দেশ্য শুধু মুসলমানদের উসকে দেওয়া, জ্ঞান বিতরণ নয়। হিন্দু ধর্মীয় শব্দ দিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়াতে চান, কিন্তু তাতে তিনি নিজেকেই বোকা প্রমাণ করছেন।
Hridoy observer মন্তব্য : মনোজ পারমারকে বলা যায়—
“তুমি যদি নাম দিয়েই সৃষ্টিকর্তাকে মাপতে চাও, তাহলে নিজের নাম নিয়েও ভেবে দেখো। তোমার নাম ‘মনোজ’, কিন্তু তুমি কি নিজের মনের দ্বারা তৈরি? না, তোমাকেও সৃষ্টি করেছেন সেই মহান আল্লাহ। নাম দিয়ে স্রষ্টা নির্ধারিত হয় না, বরং স্রষ্টা নামের ঊর্ধ্বে।”
মনোজ পারমার আরো বলেন, “মুসলমানেরা বলে আল্লাহ সবজায়গায় আছে। কিন্তু আমি বলি আল্লাহ যেখানে আছে, সেখানে কি ভগবান নেই? আসলে ভগবান সবজায়গায় আছে। আল্লাহ সবজায়গায় নেই “!
ভারতের নাম প্রকাশ করতে রাজি না হওয়া এক রাজনৈতিক নেতা বলেন, ” একজন রাজনৈতিক নেতা হয়ে মনোজ পারমার কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম সম্পর্কে এমন অবমাননা মুলক বক্তব্য করতে পারে না। এটা সত্যিই লজ্জাজনক। এবিষয়ে তাকে অবশ্যই আরো সচেতন থাকতে হবে “।
তিনি আরো বলেন, ” একজন রাজনৈতিক নেতা প্রত্যেক ধর্মের মানুষের নেতা কিন্তু মনোজ পারমার যা করেছেন। তা সত্যিই একজন রাজনৈতিক নেতা হয়ে করতে পারেন না। এমন বারবার করলে তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত “।
এই হলো বর্তমানে ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য। তারা তাদের দুর্বলতা ও দুর্নীতি ঢেকার জন্য সবসময় হিন্দু মুসলিমের মধ্যে দাঙ্গা বাধিয়ে দেয়। হিন্দুরাও সেই! এসব নেতারা যত দুর্নীতি করুক না কেন। মুসলমানদের সম্পর্কে কিছু খারাপ মন্তব্য করলে ভারতের বেশিরভাগ জনগণই খুশি।