
ইজরাইলের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করলো তুরস্ক!
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করলো যুক্তরাষ্ট্র । এদিকে তুরস্ক ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিমান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। ইজরায়েলের ব্যাপক বাণিজ্য লোকসান হবে?
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবি, আগামী মাসে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানে, ফিলিস্তিনির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের, ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। সন্ত্রাসবাদে সমর্থন, রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ে একতরফা প্রচেষ্টা এবং “সহিংসতামূলক কার্যক্রমের অত্যন্ত প্রশংসা করার” অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ভিসা বাতিল করেছে।
আব্রাহাম চুক্তি নাকচ!তোলপাড় সৃষ্টি করলো সিরিয়া
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেপুটি মুখপাত্র টমি পিগট এক্সে হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘আজ ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করছে, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের আগে, আইন অনুযায়ী তারা পিএলও এবং পিএ কর্মকর্তাদের ভিসা অস্বীকার ও বাতিল করবে। শান্তির অংশীদার হিসেবে গুরুত্ব পাওয়ার আগে পিএ এবং পিএলওকে সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাসবাদ প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং একতরফাভাবে কল্পিত রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাওয়ার প্রচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।’

অর্থাৎ আমেরিকার মতে,ফিলিস্তিন দেশ সেখানকার মানুষের কল্পনার ফল। বাস্তবে এমন কোনো দেশ নেই। ফিলিস্তিনের জনগন যে গ্রেটার ফিলিস্তিনের কথা বলে বা দাবি করে সেটি শুধুমাত্র কল্পনার ফসল। বাস্তবে এমন কোনো দেশ হবে না। সাথে ফিলিস্তিন সন্ত্রাসবাদের সমর্থ করে, যেমন হামাসের সমর্থন করে। এগুলো কোনো মতে সজ্জ করবে না আমেরিকা।
আমেরিকার মতে, ফিলিস্তিন নই বরং ইজরায়েল হলো সেখান কার ভুমির আসল মালিক। তাই অবৈধ ভাবে একটি দেশ। নিজেদের কল্পনা করা বোকামির পরিচয়। এসব নানা কারণে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট সহ ফিলিস্তিনের সবার জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
পরবর্তী মাসে আমেরিকায় জাতিসংঘের আলোচনা সভা বসবে। সেই সভায় প্রত্যেক দেশের বেশিরভাগ প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু যেহেতু সভাটি আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাই সেখানে ফিলিস্তিনের কোনো ব্যক্তিকেই এই সভায় আসবে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে তুরস্ক ইজরাইলের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করেছে । ২৯ আগস্ট, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ঘোষণা করেছেন যে, গাজার মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে তুরস্ক সব ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এখন থেকে তুর্কি বিমানস্থল ও বন্দরগুলো ইসরায়েলি বিমান ও জাহাজের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ইজরায়েল সাথে এখন থেকে কোনো প্রকার সম্পর্ক রাখবে না তুরস্ক। বলে রাখি মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে সামরিক শক্তিশালী দেশের তালিকায় এক নম্বরে অবস্থান তুরস্কের । তার নিচে রয়েছে পাকিস্তান।
তাই তুরস্ক যদি ইজরায়েলের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক বিছিন্ন করে। ২০২৩ সালে দুই দেশের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ছিল, যা এখন বিপন্ন। এদ্বারা বোঝা যায় তুরস্ক ও ইজরায়েলের মধ্যে বেশ মোটা অংকের বাণিজ্য হত। যা এখন থেকে আর হবে না। এ দ্বারা বোঝা যাচ্ছে, ইজরায়েলের ভালোই লোকসান হবে।

বিশেষ করে প্লেন চলাচলের জনপ্রিয় রুট হলো তুরস্কের ইসতামবুল। সেখানে বেশির ভাগ প্লেনেই ল্যান্ড করে যাত্রা পথে বিরতি নিতে। এমনকি জাহাজ নঙ্গর করার জন্যও তুরস্ক একটি জনপ্রিয় হাব।
এই পদক্ষেপটি তুরস্ক মুলত নিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের আক্রমণ ও সাহায্য বন্ধের প্রতিবাদ স্বরুপ।
বর্তমানে ফিলিস্তিনের ওপর কি পরিমাণে গ/ণহ/ত্যা চালাচ্ছে ইজরায়েল, তা তো সবাই জানে। এরই প্রতিবাদ স্বরুপ অবশেষে এতবড় পদক্ষেপ নিলো তুরস্ক।
এটি মধ্যপ্রাচ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। তো দর্শক এসব আপডেট সম্পর্কে আপনার মতামত কি? তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে পারেন। সাথে আপনার ফেসবুকে শেয়ার করে মুসলিম উম্মার জানতে সাহায্য করতে পারেন।