
ক্রিকেট বিশ্বকাপ ৩২ দলে আয়োজন আদৌ সম্ভব?
ফুটবল বিশ্বকাপ বর্তমানে ৩২ দল নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে এবং ২০২৬ সাল থেকে এই সংখ্যা বেড়ে ৪৮-এ পৌঁছাবে। ফুটবলের এই প্রসারণের ধারাবাহিকতায় ক্রিকেটও পিছিয়ে নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়াতে এবং আরও দেশকে এই খেলার সঙ্গে যুক্ত করতে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো ২০ দল নিয়ে অত্যন্ত সফলভাবে আয়োজিত হয়েছে, যা ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার প্রমাণ। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আইসিসি ২০২৮ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ৩২ দল নিয়ে আয়োজনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ক্রিকেট কি ফুটবলের মতো জনপ্রিয়তার দিক থেকে এত বড় আয়োজনের জন্য প্রস্তুত? ৩২ দলের বিশ্বকাপে মানসম্মত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা যাবে কি? কীভাবে দলগুলো বাছাই করা হবে এবং টুর্নামেন্টের কাঠামো কেমন হবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে দেখা যাক।
ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্কের আসল কারণ জানা গেলো!

ক্রিকেট, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এই ফরম্যাটে খেলার সময় কম এবং প্রতিযোগিতা তীব্র, যা নতুন দলগুলোর জন্য প্রতিষ্ঠিত দলের সঙ্গে টক্কর দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। টি-টোয়েন্টিতে বড়-ছোট দলের পার্থক্য অনেকটাই কমে গেছে।
উদাহরণস্বরূপ, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইতালি, আমেরিকা, কানাডার, নেদারল্যান্ড মতো দলগুলো কোয়ালিফাই করেছে, যা ক্রিকেটের বৈশ্বিক প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়। এই ফরম্যাটের কারণে নতুন দেশগুলোতে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ছে, এবং ৩২ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন এখন সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
৩২ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য দলগুলো কীভাবে বাছাই করা হবে? আমাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মহাদেশভিত্তিক দল নির্বাচন করলে সবচেয়ে ভালো হবে। চলুন নিচে একটি সম্ভাব্য তালিকা দেখা যাক।
এশিয়া কাপ ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট!

এশিয়ায় ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি, এবং এই মহাদেশ থেকে ১২টি দল নেওয়া যেতে পারে –
1. বাংলাদেশ
2. ভারত
3. পাকিস্তান
4. শ্রীলঙ্কা
5. আফগানিস্তান
6. নেপাল
7. সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)
8. ওমান
9. হংকং
10. মালয়েশিয়া / সিঙ্গাপুর
11. কাতার
12. কুয়েত / সৌদি আরব
এই দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তান পূর্ণ সদস্য দেশ। অন্যান্য দেশগুলো সহযোগী সদস্য হলেও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভালো পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। এশিয়ায় প্রচুর বাংলাদেশি ও ভারতীয় প্রবাসী থাকায় এই দেশগুলোতে ক্রিকেটের ফ্যানবেসও শক্তিশালী।
ইউরোপ থেকে ৬ টি দল অংশগ্রহণ করবে। ইউরোপ থেকে নিম্নলিখিত দলগুলো অংশ নিতে পারে। তাহলে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা আরো বাড়বে।
1. ইংল্যান্ড
2. আয়ারল্যান্ড
3. স্কটল্যান্ড
4. নেদারল্যান্ডস
5. ইতালি
6. জার্সি
ইতালির মতো দলগুলো সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখিয়েছে। ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডের মতো দলগুলো ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত। ইতালি তো ২০২৬ ক্রিকেট বিশ্বকাপে কুয়ালিফাইও করেছে।
ইউরোপ মহাদেশের মত আফ্রিকা মহাদেশ থেকেও ছয়টি করে দল অংশগ্রহণ বা কুয়াালিফাই করবে। আফ্রিকা থেকে অংশগ্রহণ করা সম্ভাব্য দলগুলো হলো:
1. দক্ষিণ আফ্রিকা
2. জিম্বাবুয়ে
3. নামিবিয়া
4. উগান্ডা
5. কেনিয়া
6. নাইজেরিয়া

নামিবিয়া এবং উগান্ডার মতো দলগুলো সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টিতে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, যা আফ্রিকায় ক্রিকেটের সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। উগান্ডা তো পরপর একটানা ১৬ টি টুয়েন্টি ম্যাচ জিতেছে। যা উগান্ডার উন্নতির লক্ষণ দেখায়। এমনকি এর আগে জিম্বাবুয়েকে পিছনে ফেলে উগান্ডা বিশ্বকাপে কুয়ালিফাই করেছিলো।
তাহলে মোট দল সংখ্যা হলো ২৪ টি। এবার আমেরিকা মহাদেশ থেকে ৪ টি দল অংশগ্রহণ করবে। আমেরিকা মহাদেশ থেকে দলগুলো হলো –
1. ওয়েস্ট ইন্ডিজ
2. যুক্তরাষ্ট্র
3. কানাডা
4. বারমুডা
যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। বারমুডায় ক্রিকেটের একটি শক্তিশালী ফ্যানবেস রয়েছে। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সম্পর্কে আমরা তো সবাই জানি।
পূর্ব এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে ৪ টি দল অংশগ্রহণ করবে। এই অঞ্চল থেকে দলগুলো হলো:
1. অস্ট্রেলিয়া
2. নিউজিল্যান্ড
3. পাপুয়া নিউগিনি ও
4. জাপান

জাপানে বেসবলের জনপ্রিয়তার কারণে ক্রিকেটও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। বেসবল খেলোয়াড়দের দক্ষতা ক্রিকেটে প্রয়োগ করা সম্ভব, যা তাদের পারফরম্যান্সে সহায়ক।
৩২ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য টুর্নামেন্টের কাঠামো কেমন হতে পারে? ফুটবল বিশ্বকাপের মতো একটি সম্ভাব্য কাঠামো হতে পারে : যেমন –
গ্রুপ পর্ব : ৩২ দলকে ৮টি গ্রুপে ভাগ করা যেতে পারে, প্রতিটি গ্রুপে ৪টি করে দল। প্রতিটি দল গ্রুপ পর্বে অন্তত ৩টি ম্যাচ খেলবে।
নকআউট পর্ব : প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ ২টি দল (মোট ১৬টি দল) প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হবে।

এই কাঠামো ছাড়াও আইসিসি সুপার ১২ বা অন্য কোনো ফরম্যাট বিবেচনা করতে পারে। তবে টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের কারণে বেশি ম্যাচ আয়োজন সম্ভব।
৩২ দলের বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে নতুন দেশগুলোতে জনপ্রিয় করবে। জাপান, ইতালি, আমেরিকার মতো দেশগুলোর অংশগ্রহণ ক্রিকেটের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি বাড়াবে।
টি-টোয়েন্টিতে ছোট দলগুলোর বড় দলকে হারানোর সম্ভাবনা থাকে, যা টুর্নামেন্টকে আরও রোমাঞ্চকর করে।
বেশি দল মানে বেশি ম্যাচ এবং দর্শক, যা সম্প্রচার ও স্পনসরশিপের দিক থেকে আইসিসির আয় বাড়াবে।
নতুন দলগুলোর সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর পারফরম্যান্সের ব্যবধান বড় হতে পারে। তবে টি-টোয়েন্টির অনিশ্চয়তা এই সমস্যা কিছুটা কমাতে পারে। ৩২ দলের টুর্নামেন্টে বেশি ম্যাচ এবং দীর্ঘ সময় প্রয়োজন, যা আয়োজক দেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩২ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন সম্ভব এবং এটি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হবে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের গতিশীলতা এবং নতুন দেশগুলোর ক্রিকেটে অগ্রগতি এই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করছে। তবে আইসিসিকে সঠিক কাঠামো, কোয়ালিফিকেশন প্রক্রিয়া এবং মানসম্মত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে সতর্ক পরিকল্পনা করতে হবে।
দর্শকদের মতামত কী? আপনারা কি মনে করেন, ৩২ দলের ক্রিকেট বিশ্বকাপ সম্ভব এবং এটি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হবে? অবশ্যও এই পর্যন্ত আর্টিকেলটি পড়ে থাকলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।