
মসজিদে আসল কাজ নামাজ নয়, আসল কাজ নাকি জঙ্গি তৎপরতা চালানো। এমনই অভিযোগ করলেন বাংলাদেশের বিখ্যাত নাস্তিক তাসলিমা নাসরিন। তিনি একটি ধর্মের ওপর প্রবল ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। তিনি নিজেকে নিরপেক্ষ চিন্তার, সত্য সন্ধানী মানুষ দাবি করেন। ফেসবুকে তার ১ মিলিয়ন ও টুইটারে প্রায় ৪৫০ হাজার ফলোয়ার রয়েছে।
বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য তথ্য যাচাই সংস্থা রুমার স্ক্যানার বাংলাদেশ (@rumorscanner) তাদের একটি পোস্টে জানান তাসলিমা নাসরিনের মন্তব্য সম্পুর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন। চলুন প্রথমে তাসলিমা নাসরিন কি বলেছেন তা সম্পর্কে জানি –

তিনি গতকাল ৯ তারিখ তাসলিমা নাসরিন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ” মসজিদের আসল কাজ নামাজ নয়, আসল কাজ সন্ত্রাস। আসল কাজ নামাজিদের জঙ্গি দীক্ষায় দীক্ষিত করা, জঙ্গিদের হাতে অস্ত্র দেওয়া, মুক্তচিন্তকদের হত্যা করা।
তিনি আরো বলেন, গত বছরের জুলাই আগস্ট মাসে থানার পুলিশদের জবাই করে, জঙ্গিরা থানা লুট করে অস্ত্র এনে মসজিদে রেখেছে। অর্থাৎ তিনি শিবিরের কথা বলতে চাচ্ছেন। তারমতে জুলাই বিপ্লবী ছিলো জঙ্গি আন্দোলন।
তারপর তিনি বলেন, এসব অসব অস্ত্র উদ্ধার হলো এক বছর পর। এক বছরে বাড়ি বাড়ি এত যে চুরি ডাকাতি ছিনতাই হলো। এগুলো এই সব মসজিদের অস্ত্র ব্যবহার করেই সম্ভবত ব্যবহার হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ” মসজিদগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত। মসজিদের বিল্ডিংগুলোকে বিজ্ঞান ক্লাব, পাঠাগার, প্রেক্ষাগৃহ, নারী-অধিকার সংস্থা, গানের স্কুল, নাচের স্কুল, নাটকের স্কুল, মুক্তচিন্তা বিকাশ কেন্দ্র, মিউজিয়াম ইত্যাদি বানানো হোক। সমাজের মঙ্গল হবে।” মসজিদ বন্ধ করে এগুলো করলে নাকি সমাজের মঙ্গল হবে।
তাসলিমা নাসরিন নিজেকে মুক্ত চিন্তার মানুষ মনে করেন। তিনি নিজেকে সত্যের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু তিনি এসব করছে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে। তিনি গুজব ছড়িয়ে, ইসলাম ধর্মের নামে ঘৃণা ছড়াচ্ছেন। নিজে পদে পদে ভুল ও মিথ্যা কথা বলে, মানবাধিকারের রক্ষাকারী ভাবছেন।
কিন্তু তাসলিমা নাসরিনের এই মুখোশ খুলে দিয়েছে, বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকার সংস্থা – রুমোর স্ক্যানার বাংলাদেশ। মুলত এই সংস্থাটি গুজব সম্পর্কে মানুষ কে জানিয়ে, সত্য খবর সবার সামনে আনার জন্য কাজ করে।
রুমোর স্ক্যানার বাংলাদেশ, ” একটি পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছে, তাসলিমা নাসরিন যে মসজিদ সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। সেটি সম্পুর্ণ ভুয়া। এক বছর আগে লুটপাটকৃত অস্ত্রগুলো একটি মসজিদ থেকে উদ্ধারের দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং মিথ্যা প্রচারের অংশ। এই মিথ্যা তথ্য প্রচারের পেছনে ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে অপব্যবহারের চেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছে, যা দেশের শান্তি ও সম্প্রদায়গত সংহতির জন্য গুরুতর হুমকি।
এই মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে মসজিদ,কে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বানানো গল্পের অংশ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। এটি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় স্থানের প্রতি অবজ্ঞা নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশী সমাজে বিশ্বাস ও সহাবস্থানের ভিত্তিকে ক্ষুণ্ণ করার একটি ষড়যন্ত্র।

রামার স্ক্যানারের তথ্য অনুসারে, এই দাবি ২০২৪ সালের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে যুক্ত কিছু গোপনচরী গোষ্ঠীর প্রচারণার অংশ হতে পারে, যেখানে এখনো ১,৭৪৮টি অস্ত্র উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছে (অনুযায়ী: দ্য ডেইলি স্টার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৪)।
আমরা, সাধারণ নাগরিক ও সচেতন সমাজ, এই মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিবাদ জানাই। ধর্মীয় স্থানগুলোকে এ ধরনের মিথ্যা দাবির মাধ্যমে কলঙ্কিত করা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাই যেন তাৎক্ষণিকভাবে এই মিথ্যা প্রচারের জন্য তাসলিমা নাসরিন কে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
অস্ত্র উদ্ধারের জন্য চলমান অভিযানে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে অপব্যবহার থেকে রক্ষা করতে হবে। আমরা সকল নাগরিককে আহ্বান করি যেন তারা এই ধরনের মিথ্যা তথ্য প্রচারে সহযোগিতা না করেন এবং তথ্য যাচাইয়ের জন্য নির্ভরযোগ্য উৎস, যেমন রামার স্ক্যানার বা জাচাই (https://www.jachai.org),-এর মতো সংস্থাগুলোর উপর ভরসা করেন। সত্যের জয় হোক, এবং আমাদের সমাজে শান্তি ও সংহতি অক্ষুণ্ণ থাকুক।