
মহানবীর কটূক্তির প্রতিবাদ করাই হল কাল!
রংপুরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সঃ কে নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে হিন্দুদের বাড়িতে হামলা হয়। এ ঘটনা তো পুরনো। কিন্তু এবিষয়ে বাংলাদেশের বিখ্যাত সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেইন তার ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন – রংপুরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ স কে নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদ করাই সেনাবাহিনী পুরো গ্রামই পুরুষ শুন্য করে দিয়েছে।
ইলিয়াস হোসেইন তার ভিডিও তে তুলে ধরেন – ফেসবুক পোস্টে উদ্দেশ্য প্রেনিতভাবে ইসলাম ধর্মের সর্বশেষ্ঠ নবিকে কটুক্তি করে এক হিন্দু যুবক। সেই কটুক্তির প্রতিবাদে কিছু নবি প্রিয় মুসলমান প্রতিবাদ করতে যায়। তারা হিন্দু পাড়াই গিয়ে যে ব্যক্তি নবিজিকে কটুক্তি করেছিল তার বাড়ি ভাঙচুর করে।
কিন্তু ভুলক্রমে তার বাড়ি চিনতে না পেরে অন্য একজনের, কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করেন। কিন্তু বাংলাদেশের প্রথম সারির কিছু গণমাধ্যম প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, কালবেলা এই ঘটনাকে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা হিসেবে প্রচার করেন। প্রথম আলো হেডলাইন দেন – ২১-২২ হিন্দু বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর রোডম্যাপ প্রকাশ!

কিন্তু এই নিউজ টি সম্পুর্ণ বানানো ও গুজব। ইলিয়াস হোসেইন গণমাধ্যম” বাংলা এডিশন ” ঘটনা স্থলে গিয়ে প্রমাণ পেয়েছে। প্রথম আলোর খবর সম্পুর্ণ রুপে ভুয়া। সেখানে শুধুমাত্র ৪- ৫ বাড়িই ভাঙচুর করা হয়েছে। কিন্তু প্রথম আলো তা বাড়িয়ে চড়িয়ে প্রচার করেছে।
মজার বিষয় হলো প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের রিপোর্ট দেখিয়ে ভারতের নিউজ চ্যানেল গুলো আরো গুজব ছড়াচ্ছে। বিষয়টি এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে যে, টুইটারে #saverangpurhindus trends চালিয়েছে, ভারতের হিন্দুরা।
এরই প্রেক্ষাপটে, যারা নবিজির নামে কটুক্তি করার প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলো। তারা কেউ আর ঘরে থাকতে পারছে না। অনেকেরই গ্রেপ্তার করে তাদের ওপর অত্যাচার করেছে বাংলাদেশ আর্মি। এই বিষয়ে ইলিয়াস হোসেইন, তার ভিডিও তে কয়েকটি সাক্ষাৎকার নেন।
ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্কের আসল কারণ জানা গেলো!
যেখানে সাক্ষাৎ কার দেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, আমার সুস্থ ছেলে রাতে তুলে নিয়ে যায় আর্মিরা। সকালে আদালতে দেখলাম আমার ছেলে হাটতে পর্যন্ত পারছে না। আমার ছেলে বলছে, সারারাত আমার ওপরে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে আর্মিরা।

এই বিষয়ের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য, ইলিয়াস হোসেইন ঘটনার দায়িত্বে থাকা, আর্মির ক্যাপ্টেনকে ফোন করেন। তিনি এবিষয়ে জানতে চাইলে আর্মির ওই অফিসার অস্বীকার জানাই। তিনি আরো বলেন এমন কিছু হয়নি। তাকে এবিষয়ে জানতে হলে আরো উপরের কারো কাছে জানতে হবে। আমি ইলিয়াস হোসেইন সাথে কথা বলার লেভেলে নাই।
শুধু এই ব্যাক্তিই নয়। সাক্ষাৎ কার দেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তি একই কথা বলেছেন। তাদের একটাই কথা, আমরা আমাদের নবীর নামে কটুক্তি করার প্রতিবাদে এমনটা করেছি। কোনো ব্যক্তিগত কারনে নই। কিন্তু সেনাবাহিনী আমাদের ধরছে কিন্তু যে মুল অপরাধী তাকে গ্রেপ্তার করেনি। তারা এও স্বীকার করেন, বিষয়টি আইনের হাতে দেওয়া দরকার ছিলো।
এদিকে যে ব্যক্তি হযরত মোহাম্মদ স এর বিরুদ্ধে কটূক্তি করেন। তাকে শিশু বলে, ১৮ বছর বয়স হয়নি বলে। জেল খানায় পাঠানো হয়নি বরং শিশুদের এই বিষয়ে যে স্থানে রাখা হয় সেখানে রাখা হয়েছে।
এইতো গেলো আসল বিষয়। কিন্তু একটি জিনিস খেয়াল করেছেন। হিন্দুদের বিপক্ষে কিছু করলে ভারতের হিন্দুরা সবসময় এগিয়ে আসে। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর কেউ কথা বলতে পারে না। শুধুমাত্র ভারতের ভয়ে। হিন্দুদের মধ্যেও কত একতা। কিন্তু মুসলমানদের মধ্যে সেই একতা নেই।

আজ ভারতে মুসলমানদের ওপর হামলা নির্যাতন বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি ভারতে মুসলমানদের একটি মসজিদ হিন্দুরা দখল করেছে। সেই ভিডিও সোসিয়াল মিডিয়ায় ভাইরাল। কিন্তু এবিষয়ে ভারতের মিডিয়া কোনো নিউজ করিনি। বাংলাদেশের মিডিয়াও কোনো নিউজ করিনি।
কিন্তু আজ যদি বাংলাদেশের কোনো মন্দিরে মুসলিমেরা কালেমার পতাকা উড়াতো। তাহলে ভারতের মিডিয়া তো দুরে থাক। বাংলাদেশের মিডিয়ায় মুসলমানদের জঙ্গি, উগ্র বলে দাবি করবে। মুসলমানদের বিপক্ষে মিথ্যা প্রোপোগান্ডা চালাতো। বাংলাদেশ আফগানিস্তান হয়ে যেতে।
এদ্বারা বোঝা যায় হিন্দুদের মধ্যে কতটা একতা। তারা বাংলাদেশের প্রথম সারির মিডিয়া, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ইতিমধ্যে কিনে নিয়েছে। যারা এখানে কাজ করে। যে মালিক, সেও কিন্তু মুসলিম। কিন্তু ওরা সামান্য টাকার জন্য হিন্দুদের হয়ে কাজ করছে।

মুসলমানদের মতন একতাহীন জাতি, বর্তমানে পৃথিবীতে আর একটি আছে কিনা, সন্দেহ আছে। আজ হিন্দু হোক খ্রিষ্টান হোক, ইহুদি হোক। যে ধর্মের, যে জাতিই হোক না কেন? যত ছোটই হোক না কেন? তাদের বিপক্ষে কথা বললে তাদের ওপর নির্যাতন করলে তারা সবাই এক হয়ে মোকাবেলা করে।
আর মুসলমানেরা নিজেদের মধ্যেই মারামারি করে। আজ ফিলিস্তিনিদের ওপর কি অত্যাচার করছে ইজরায়েল আমেরিকা। কিন্তু বড় বড় মুসলিম দেশগুলো চুপ করে আছে। যদি ফিলিস্তিনে মুসলিম না হয়ে হিন্দু হত তাহলে কোনোদিন তারা এত অত্যাচারিত হত না।
বাংলাদেশে মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ট বেশি। তারপরেও এখানে মুসলিমেরা অত্যাচারিত হয়। কারা অত্যাচার করে এই মুসলমানরাই। তাহলে কি বুঝলেন। বর্তমানে সময় এসেছে পৃথিবীর সব মুসলিমেরা এক হওয়া। তা নাহলে এভাবেই পৃথিবীর প্রত্যেক জায়গায় মুসলমানেরা অত্যাচারিত হতে থাকবে।
Hridoy Observer – দেশ ও ইসলামের কথা বলে।