
আব্রাহাম চুক্তি নাকচ!তোলপাড় সৃষ্টি করলো সিরিয়া
আমেরিকা ও ইসরায়েলের উদ্যোগে তৈরি আব্রাহাম চুক্তি বর্তমানে আরব বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। অনেক আরব দেশ একে সমর্থন জানিয়েছে, আবার অনেকে এটিকে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে। এরই মধ্যে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আশ-শারা সোজাসুজি জানিয়ে দিলেন – সিরিয়া কখনোই এই চুক্তিতে যোগ দেবে না।
আব্রাহাম চুক্তি মূলত ২০২০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত হয়। ইসরায়েল এবং আরব বিশ্বের কয়েকটি দেশ – যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কো – এই চুক্তির মাধ্যমে ইজরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে।
এই চুক্তির নামকরণ করা হয়েছে নবি ইব্রাহিম আ. এর নামে, যাকে খ্রিস্টান, ইহুদি ও মুসলিম – সব ধর্মের মানুষ মহান সত্তা হিসেবে মানে। যারফলে কোনো ধর্মের মানুষ যেন অসন্তোষ না থাকে। এমনকি চুক্তির বিষয় তিনটি ভাষায় লেখা হয়েছে। খ্রিষ্টানদের জন্য ইংরেজি ভাষা। ইহুদিদের জন্য হিবরু ভাষা ও আরবদের জন্য আরবি ভাষায়।
গাজায় দুর্ভিক্ষ স্বীকার করলো জাতিসংঘ | ভাইরাল ৩ আপডেট

এই চুক্তির মুল বিষয় এই তিন ধর্মের অনুসারীদের একসাথে আনা। তাহলে তিন ধর্মের মানুষেরই লাভ হবে। বিশ্বের ৪ ভাগের প্রায় ২.৫ ভাগই এ ধর্মের অনুসারী। এই চুক্তির মুল উদ্দেশ্য মধ্যপ্রাচ্য শান্ত করা।
তবে মুসলিম উম্মাহর একটি বড় অংশের অভিযোগ – এই চুক্তি আসলে ইসলামের বিরুদ্ধে, আরব ভূমিকে আমেরিকা ও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এক বড় ষড়যন্ত্র। যদি আরব নেতারা একে সমর্থন করে, তাহলে ফিলিস্তিন চিরতরে মুছে যেতে পারে।
কারণ ইজরায়েল আমেরিকা ফিলিস্তিন কে ইজরায়েলের দাবি করে। এখন যদি আরব বিশ্বেও ইজরায়েলের দিকে হয়ে যায় তাহলে আর ফিলিস্তিন বলে কিছই থাকবে না। ইতিমধ্যে অনেক মুসলিম দেশ এই চুক্তিতে সম্মত জানিয়েছে। এজন্য তারা ইজরায়েলের বিপক্ষে বর্তমানে কিছুই বলছে না। কারণ তারাও পরক্ষ ভাবে ইজরায়েল কে সমর্থন করে।

কিন্তু সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আশ-শারা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন – সিরিয়া এই চুক্তিতে নেই, থাকবেও না। সৌদি ম্যাগাজিন আল-মাজাল্লাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,”ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের সংঘাত অন্য আরব রাষ্ট্রের মতো নয়। আব্রাহাম চুক্তি হয়েছে সেইসব রাষ্ট্রের সঙ্গে, যাদের কোনো দখলকৃত জমি নেই। কিন্তু আমাদের গোলান হাইটস এখনো ইসরায়েল দখল করে রেখেছে। এ অবস্থায় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না “।
এমনকি গত মে মাসে যখন সিরিয়ার ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা আসে, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প আহ্বান জানিয়েছিলেন। সিরিয়া যেন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক মিটিয়ে ফেলে। কিন্তু আশ-শারা মার্কিন চাপে নতি স্বীকার করেননি। বরং চোখে চোখ রেখে আগ্রাসী দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রস্তাব স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আব্রাহাম চুক্তি নিয়ে আরব দুনিয়ায় দ্বিধা-দ্বন্দ্ব চলছে। কেউ মনে করছে এটি শান্তির নতুন দিগন্ত, আবার কারো মতে এটি মুসলমানদের অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি। আর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আশ-শারার এই স্পষ্ট অবস্থান নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল আরব বিশ্বে।