
আলেম সমাজ কি ভুল করছেন - ইলিয়াস হোসেইন?
বাংলাদেশ মুসলিম নিউজ ডেস্ক : ২৮ জুলাই, ঢাকা।
আলেম সমাজ কি ভুল করছেন – ইলিয়াস হোসেইন? বর্তমানে বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপন নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে দেশের আলেম সমাজ ও কয়েকটি ইসলামী রাজনৈতিক দল এর তীব্র বিরোধিতা করছে তারা বলছে, এই কার্যালয় বাংলাদেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ, ইসলামি শরিয়াহ ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক ইসলামী দল গুলো সরাসরি এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে। তারা জানান, মানবাধিকার সংস্থার নামে বাংলাদেশে পশ্চিমা সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে।
এবার এই বিষয়ে আলেম সমাজ কে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশের বিখ্যাত সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেইন। প্রথমে আলেম সমাজের অবস্থান সম্পর্কে বলবো তারপর ইলিয়াস হোসেনের সতর্কতাবার্তা :-
এশিয়া কাপ ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট!

কিছু আলেম দের মতানুসারে, অতীতে জাতিসংঘ বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার ও নারীর অধিকার ইস্যুকে ব্যবহার করে ইসলামি পারিবারিক আইন ও শরিয়াহর উপর হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, একই রকম হস্তক্ষেপ এবার বাংলাদেশেও হতে চলেছে।
আমেরিকা বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কে কাজে লাগিয়ে পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দিতে চাইছে। যা কোনো ভাবেই বাংলাদেশের ইসলাম প্রিয় জনগণ মেনে নিবে না। এই বিষয়ে ইসলামী নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তারা বলেছেন, জাতিসংঘের কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও জনগণের মতামত নেওয়া উচিত । অন্যথায় তারা দেশের ধর্মীয় চেতনার প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখবেন। আলেম সমাজ বুঝে যাবে ইউনুস সরকার কাদের হয়ে কাজ করছেন। যদি ইউনুস সরকার আমেরিকার হয়ে কাজ করে তাহলে প্রয়োজনে, কঠোর কর্মসূচি দিতেও পিছপা হবেনা বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

এরপর পরই সরকার থেকে জানানো হয়েছে, আসলে বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের মাধ্যমে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন করা হবে। যারফলে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো ভালো করতে সাহায্য করবে। মুলত এই জন্যও মানবাধিকার কার্যলয় ঢাকায় করবার উদ্দোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এবিষয়ে কিছু সাধারণ জনগণের বক্তব্য হলো: যদি জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যলয় সত্যিই ন্যায়ের কথা বলতো, তাহলে ফিলিস্তিনের বিষয়ে তারা চুপ কেন? কেন ইজরায়েল ফিলিস্তিন যুদ্ধ থামাতে পারছে না? কেন হাজার ফিলিস্তিনি নারি, শিশু না খেয়ে মারা যাচ্ছে? তখন কোথায় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংগঠন। যেখানে দরকার সেখানে কিছুই করতে পারছে না! বাংলাদেশে এসেছে আমেরিকার প্রপাগান্ডা ছড়াতে!
তবে এই পরিস্থিতির ভিন্ন দৃষ্টিকোণ তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেইন। তিনি তার ফেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আলেমদের পক্ষে হয়ে কাজ করে চলছেন। তিনি শতাধিক আলেমের জামিনের পেছনে ভূমিকা রেখেছেন।
ফিলিস্তিন থেকে ভাইরাল সর্বশেষ নিউজ!

তার মতে, আজ যারা জাতিসংঘের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন, তারা যেন ভেবে দেখেন বাংলাদেশের আসল শত্রু কারা। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, গত ১৫ বছরে আলেমদের সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করে যে গণমাধ্যমগুলো অপপ্রচার চালিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রতিবাদ বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পেরেছে কিনা? পারিনি! বরং সেই মিডিয়া হাউসগুলো আজও নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ইলিয়াস হোসেইন আরও বলেন, এসব কথা শুনে অনেকে আমাকে এমেরিকার দালাল বলবেন। আজ যারা আমাকে আমেরিকার দালাল বলছেন, তাদের অনেকেই অতীতে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন ও ডিজিএফআইয়ের পরিকল্পনায় কালেমা লেখা পতাকা নিয়ে মিছিল করেছেন।
আর কালেমা লেখা পতেকা, যা আদতে ইসলাম নয়, বরং বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার পতাকার অংশ। যাকে পশ্চিমারা জঙ্গি সংগঠন বলে থাকে। এই পতাকা বাংলাদেশের সাধারণ মুসলমানদের হাতে তুলে দিলো কারা। সাবধান! সেনাবাহিনীর প্রধান খুবই বুদ্ধিমত্তার সাথে এগুলো করছে।
এশিয়া কাপ ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট!
আজ এগুলো নিয়ে যখন আলেম সমাজ মিছিল করবে। তখন বাংলাদেশের মিডিয়া সহ আন্তর্জাতিক মিডিয়া বাংলাদেশে যে জঙ্গি সংগঠন আবারো মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে সেই বার্তা দিবে। সাথে এসব ভিডিও ব্যবহার করে দেশে জঙ্গি নাটক সাজাবে। সাথে যদি আওয়ামী লীগ ভারত সহ কেউ হালকা হামলা করে সেটি জঙ্গি হামলা সাজাতে পারে। তাহলেই বাংলাদেশ কে একটি জঙ্গি দেশ হিসেবে ঘোষণা দিতে পারবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আমাদের আসল শত্রুকে চেনা জরুরি। আমাদের আসল শত্রু আমেরিকা নয় বরং ভারত। আমেরিকার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করে ভারসাম্যহীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। আর যদি এবিষয়ে আমেরিকা প্রতিক্রিয়া দেখায় তাহলে বাংলাদেশের উপরেই বেশি চাপ পড়বে। তখন আর কিছু করার থাকবে না।
আগে আমাদের ভারত মুক্ত দেশ গড়তে হবে।সাথে অর্থনীতি আরো উন্নত করতে হবে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। তাহলে হওতো একদিন আমেরিকার বিরুদ্ধে যেতে পারবো? কিন্তু এখন নয়। এখন আসল সবার আগে দেখা উচিত বাংলাদেশের জন্য আসল শত্রু কারা।
তিনি আরও বলেন, যেসব আলেমেরা এখন কারাগারে বিনা অপরাধে বন্দিজীবন কাটাচ্ছে। তাদের কে এখনো পর্যন্ত এক বছরেও তাদের মুক্তির দাবিতে একটি বৃহৎ সমাবেশ করতে পারেননি। অথচ আমেরিকার বিরুদ্ধে ময়দানে নেমে গেলেন। রাজনৈতিক কৌশল ও বাস্তবতা ভুলে গেলে আদর্শ রক্ষা করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপন নিয়ে চলমান বিতর্কে ধর্মীয় অনুভূতি, জাতীয় স্বার্থ, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বাস্তব রাজনৈতিক কৌশ -সবগুলোই জড়িত। এ ধরনের স্পর্শকাতর ইস্যুতে আবেগ নয়, প্রয়োজন দূরদর্শী চিন্তা, পর্যালোচনা এবং দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত। যদি আমরা তাতে ব্যর্থ হয় তাহলে বাংলাদেশের জন্য খারাপ সময় অপেক্ষা করছে।