
জঙ্গি নাটকের আবারো আবির্ভাব?
জঙ্গি নাটকের আবারো আবির্ভাব? বাংলাদেশে একটি বিতর্কিত পুলিশ ইউনিট, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। আবারো সমালোচনার ঘেরাওয়ে পড়েছে। সম্প্রতি একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অভিযোগ উঠেছে যে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ১১ মাস পরেও এই ইউনিট নতুন করে “জঙ্গি নাটক” সাজানোর চেষ্টা করছে।
এই অভিযোগের মূলে রয়েছে সিটিটিসির অতীতের কার্যক্রম এবং বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে নতুন প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর ইঙ্গিত । অভিযোগের সারাংশএকটি সাম্প্রতিক Doam Bangla নামে একটি X হ্যান্ডল থেকে শেয়ার করা হয়েছে।
পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, সিটিটিসি শেখ হাসিনার শাসনামলে শতাধিক নিরীহ মুসলিমদের “জঙ্গি” হিসেবে সাজিয়ে গুম-খুন করেছে। পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১১ মাস ধরে কোনো বাহিনী জঙ্গি অপারেশন চালাতে পারেনি, যা প্রশ্ন তুলেছে এই ইউনিটের কার্যকলাপের উপর।
মিটফোর্ডের সোহাগ কে হিন্দু দাবি ভারতীয় গণমাধ্যমের!

এছাড়া, জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার মুফতী রেজাউল করিম আবরার, লেখক আসিফ আদনান এবং জাকারিয়া মাসুদের বিরুদ্ধে সিটিটিসির ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের ঘটনাও এই অভিযোগের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।জঙ্গি নাটকের আবারো আবির্ভাব?
পোস্টটি আরও জানিয়েছে যে, বর্তমানে দেশে চলমান অস্থিতিশীলতার মধ্যে দিয়ে প্রশাসনের একটি মহল এই জঙ্গি নাটক পুনর্বহাল করার চেষ্টা করছে, যা মুসলমানদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে। এর পরিপক্ষে লোকদের এই প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সিটিটিসির পটভূমি সিটিটিসি ২০১৬ সালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে গঠিত হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসবাদ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ। তবে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার এই ইউনিটের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।

হিউমান রাইটস ওয়াচের ২০২১ সালের একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, ২০০৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত শেখ হাসিনার শাসনামলে কমপক্ষে ৫৮০ জনকে বেনামি গুম হওয়ার শিকার হয়েছে এবং ৬০০-এর বেশি মানুষকে অসাধারণ হত্যাকাণ্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গোপালগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলার আসল কারণ কী?
এই রিপোর্টে সিটিটিসিকে এসবের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের ২০১৮ সালের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, আওয়ামী লীগ সরকার জিহাদি হামলার ভয় দেখিয়ে বিরোধী দলগুলোকে নিপীড়ন করেছে, যা জিহাদি গোষ্ঠীদের প্রভাব বাড়াতে সাহায্য করেছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে (৫ আগস্ট ২০২৪), বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির রয়েছে। গত জুলাইয়ে বি.বি.সি-র একটি প্রকাশনায় জানা গেছে যে, শেখ হাসিনা নিজে প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে মারাত্মক শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা গত বছরের গণআন্দোলনের মূলে রয়েছে।জঙ্গি নাটকের আবারো আবির্ভাব?

এই ঘটনার পর থেকে সিটিটিসি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।বর্তমানে, দেশে ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত বেড়েছে, যেখানে সরকারের কিছু মহল এই অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে পুরোনো কৌশল ফিরিয়ে আনতে চাইছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, সিটিটিসির কার্যকলাপ নিয়ে নতুন ভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে।প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সিটিটিসি বা সরকারী কোনো কর্মকর্তা এখনো এই অভিযোগের উপর সরাসরি মন্তব্য করেননি। তবে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই বিষয়ে গভীর তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ৫৪ বছর পর কে এগিয়ে?
একই সঙ্গে, সামাজিক মাধ্যমে #AbolishCTTC হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে এই ইউনিট ভাঙচুরের দাবি উঠেছে।মুফতী রেজাউল করিম আবরারের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে তিনি নিজে জানিয়েছেন, “এটি আমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। আমি আইনি পথে এর বিরুদ্ধে লড়াই করব।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের অভিযোগ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।উপসংহারবাংলাদেশে জঙ্গি নাটকের অভিযোগ নতুন নয়, তবে এর পুনরাবৃত্তি বর্তমান প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে।
সিটিটিসির কার্যকলাপ নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা কঠিন। এই বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে, এবং ভবিষ্যতে এর প্রভাব রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে গভীরভাবে অনুভূত হতে পারে।
এখন কথা হলো, শেখ হাসিনা তো আর দেশে নাই। তার হাতে তৈরি করা বাহিনির কি অবস্থা হবে। এখন তা দেখার বাকি। ইউনুস সরকার কি এই সিটিটিসির কার্যকলাপ বন্ধ করবে নাকি তাদের কাজ এভাবেই চলবে? জঙ্গি নাটকের আবারো আবির্ভাব?
সূত্র: সামাজিক মাধ্যম, Doam Bangla, হিউমান রাইটস ওয়াচ, বি.বি.সি, আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপ