
জামায়াতের সমাবেশে গেলে চিহ্নিত করা হবে : বিএনপি
জামায়াতের সমাবেশে গেলে চিহ্নিত করা হবে : বিএনপি ! বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী আজ, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫-এ ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি বৃহৎ জাতীয় সমাবেশের আয়োজন করছে। এই সমাবেশটি শুরু হবে দুপুর ২টায়, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গতকাল শুক্রবার উদ্যানের পরিদর্শন করে প্রস্তুতি পরীক্ষা করেছেন। সাথে সাংবাদিকদের সামনে তাদের পরিকল্পনা উন্মোচন করেছেন। এদিকে এই সমাবেশে জনগণ যাতে না যেতে পারে। তার জন্য বিএনপি আবারো শুরু করেছে ভয়ের রাজনীতি।
গতকাল বিকাল ৩টায় নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিদর্শন করেন। এই দলে সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. হামিদুর রহমান আযাদসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান জানান, “আল-হামদুলিল্লাহ, ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ‘জাতীয় সমাবেশ’ অনুষ্ঠানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।” তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন যাতে সমাবেশটি সফলভাবে সম্পন্ন হয় এবং দেশবাসীদের কাছ থেকে দোয়া চেয়েছেন।
সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান আজকের সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন। তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি কল্যাণময় রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানাবেন। জামায়াতের সমাবেশে গেলে চিহ্নিত করা হবে : বিএনপি
পরওয়ার আরও বলেন, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কয়েক লক্ষ মানুশের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে, যা রাজধানীতে যানজট সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে জামায়াত নেতৃবৃন্দ গতকাল ও আজ পুনরায় ঢাকাবাসী ও দেশবাসীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। ৭ মার্চ ১৯৭১-এ শেখ মুজিবুর রহমান এখানে সেই ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করেছিল। তবে জামায়াত-ই-ইসলামীর ইতিহাস এই স্থানের সাথে বিতর্কিত।
গোপালগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলার আসল কারণ কী?
১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের পূর্বসূরি জামায়াত-ই-ইসলামী পাকিস্তান বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৯৭২-এ ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির অধীনে পার্টিটি নিষিদ্ধ হয়েছিল, যা ১৯৭৬-এ উঠে যায়। ২০২৫-এ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তে পার্টির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা আজকের সমাবেশের পটভূমি তৈরি করেছে।
জামায়াত নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, এই সমাবেশের মাধ্যমে তারা জাতিকে ঐক্যের বার্তা দেবে এবং একটি কল্যাণময় রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবে। তবে এই সমাবেশকে নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মতামত বিদ্যমান।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জামায়াতের এই পদক্ষেপটি তার পুনর্জাগরণের চেষ্টা হতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। ২০১৩-এ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের রায়ের পর জামায়াত সমর্থকদের সাথে সংঘাতের ইতিহাস বিবেচনায়, নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
সরকারী ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সমাবেশের কারণে ঢাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। তবে জামায়াত নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে জানিয়েছেন, তাদের এই সমাবেশের বার্তা জাতির কাছেও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পৌঁছে যাবে।

কয়েক লক্ষ মানুষের সমাবেশ ঢাকার যানজট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। জামায়াতের পক্ষ থেকে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমা প্রার্থনা এবং আজকের পুনরাবৃত্তি এই চ্যালেঞ্জের প্রতি তাদের সচেতনতা প্রকাশ করে। অন্যদিকে, এই সমাবেশ সফল হলে জামায়াতের রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
এদিকে এই সমাবেশে যাতে জণগণ উপস্থিত হতে না পারে তার জন্য বিএনপি খেলছে ভয়ের রাজনীতি। গতকাল বিএনপির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে বিএনপির এক নেতা বলছেন।
বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ৫৪ বছর পর কে এগিয়ে?
আমাদের বিএনপির লোকজন প্রত্যেক ইউনিয়নে ইউনিয়নে, গ্রামে গ্রামে আছে। সবাই কে খেয়াল রাখতে হবে, যারা যারা জামায়াত ই ইসলামের সমাবেশে, আপনার এলাকা থেকে যাবে। তাদের কে চিনে রাখতে হবে। তারপর আমাদেরও সময় আসবে। তখন তাদের খুঁজে খুঁজে দেখে নিবো।
অর্থাৎ এই বিএনপির নেতা ভয় দেখাচ্ছে, যদি কেউ জামায়াতে ইসলামী দলের সমাবেশে যায়। তাহলে তাদের খবর খারাপ করে দেওয়া হবে। তাদের কে চিহ্নিত করে রাখা হবে। যখন তারা সুযোগ পাবে বা ক্ষমতায় আসবে। তখন তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার সহ না হয়রানি করা হবে। জামায়াতের সমাবেশে গেলে চিহ্নিত করা হবে : বিএনপি
এখন দেখা যাক, বিএনপির এই নেতার হুমকির মুখে পড়ে কতজন জনগণ সমাবেশে হাজির হয়। ইতিমধ্যে খবর পাওয়া গেছে, অলরেডি ১ লক্ষাধিক জনগণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিত হয়ে গেছে। অর্থাৎ বিএনপির এই নেতার হুমকি জামায়াতের সমর্থকেরা কিছু মনেই করেনি।
ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজকের জাতীয় সমাবেশ জামায়াত-ই-ইসলামীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এর ফলাফল কী হবে, তা নির্ভর করবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জনগণের প্রতিক্রিয়া এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের উপর। দেশবাসী এখন এই ঘটনার দিকে মনোযোগ দিয়ে রয়েছেন, এবং সময়ই এর সত্যিকারের প্রভাব উদঘাটন করবে।